প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার ক্ষেত্রে 'রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫' যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ইসি সচিবালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ নির্দেশনা দেশের সকল রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, নতুন বিধিমালা অনুযায়ী কোনো প্রার্থী বা তার এজেন্ট যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে প্রচারণা চালাতে চান, তবে তার আইডি, অ্যাকাউন্ট নাম এবং ই-মেইল ঠিকানা প্রচারণা শুরুর আগেই রিটার্নিং অফিসারকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।
এছাড়া প্রচারণার খরচের বিষয়েও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বিধিমালার ২২ (২) ধারা অনুযায়ী, ফেসবুক, ইউটিউব বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন প্রদান, কন্টেন্ট তৈরি কিংবা বুস্টিংয়ের জন্য যে অর্থ ব্যয় হবে, তা প্রার্থীর সামগ্রিক নির্বাচনি ব্যয়ের সীমার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে কমিশনকে দাখিল করতে হবে। রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা প্রতিটি প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল কোন কোন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে, তার বিস্তারিত তথ্য দ্রুত ইসি সচিবালয়ে পাঠায়।
বাঙালির রাজনৈতিক লড়াই ও প্রচারণার ধরণ গত এক শতাব্দীতে নাটকীয়ভাবে বদলেছে:
১৯০৫-১৯৭১: বিংশ শতাব্দীর শুরুতে প্রচারণার প্রধান মাধ্যম ছিল লিফলেট, জনসভা এবং টিনের চঙে ঘোষণা। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও পোস্টার ছিল প্রধান হাতিয়ার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঘোষণা করেছিলেন, "তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো।" সেই আবেগ ছড়াত লোকমুখে।
স্বাধীনতার পরবর্তী যুগ (১৯৭১-২০২৪): ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচন থেকে নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত প্রচারণার প্রধান শক্তি ছিল রাজপথের মিছিল ও দেয়াল লিখন। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর ধারণা প্রচারণায় প্রযুক্তির ছোঁয়া আনতে শুরু করে।
২০২৪-২০২৬: ডিজিটাল বিপ্লব: ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক, টিকটক) যে ভূমিকা পালন করেছে, তা বাংলাদেশের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো 'কাগজের পোস্টার মুক্ত' এবং 'ডিজিটাল প্রচারণা' নির্ভর একটি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এই কারণেই ইসি এবার এআই (AI) এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিমালা প্রণয়ন করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে 'ফেক নিউজ' এবং 'বুস্টিং' নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ইসির এই পদক্ষেপ যদি সঠিকভাবে কার্যকর হয়, তবে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে তারেক রহমান, নাহিদ ইসলাম ও ডা. শফিকুর রহমানের মতো শীর্ষ নেতাদের নির্বাচনি প্রচারণা এখন ইউটিউব ও ফেসবুকে কয়েক কোটি মানুষের কাছে মুহূর্তেই পৌঁছে যাচ্ছে।
সূত্র: নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, বাসস, যুগান্তর এবং ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মাঠ পর্যায়ের সংবাদ।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা পদ্ধতিতে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং এর আইনি সীমাবদ্ধতার একটি বস্তুনিষ্ঠ চিত্র তুলে ধরেছে। এটি পাঠককে বায়ান্ন থেকে ছাব্বিশের রাজনৈতিক বিবর্তনের সাথে সংযুক্ত করে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |